Job

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

- বাংলা - বাংলা সাহিত্য | NCTB BOOK
1.2k

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি। তিনি মূলত চন্ডীমঙ্গল রচনার জন্য পরিচিত। তার পৈতৃক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রাম। পিতা ছিলেন হূদয় মিশ্র এবং মাতা দৈবকী।

জন্ম ও পরিবার:
মুকুন্দরামের পরিবার বর্ধমান জেলার দামুন্যায় বসবাস করত। তার পূর্বপুরুষ মাধব ওঝাকে দেবতা শিবের উপাসনার তীর্থস্থলে জমি-জমার দেখাশোনার জন্য নিযুক্ত করা হয়। মুকুন্দরাম জগন্নাথ মহামিশ্রের সন্তান ও গুণরাজ মিশ্রের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন। পরিবার কৃষি নির্ভর ব্রাহ্মণ পরিবার।

জীবনপথ ও দুর্গতি:
রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে মুকুন্দরাম, তার পরিবার ও সহকর্মীরা গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। অস্থায়ীভাবে বালিয়া গ্রামে বসবাসের পর দেবী চন্ডী স্বপ্নে তাকে পাঁচালি রচনা করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আড়রা গ্রামে যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতায় চন্ডীমঙ্গল রচনা করেন। তাঁর সাহিত্যের জন্য তাকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

সাহিত্যকর্ম:
মুকুন্দরামের প্রধান সৃষ্টি হলো চন্ডীমঙ্গল, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে একটি অনন্য সৃষ্টি। কাব্যটি তিনটি অংশে বিভক্ত:

  1. দেবী চন্ডী ও পৌরাণিক কাহিনী

  2. শিকারী কালকেতু ও তার স্ত্রী ফুল্লরার জীবন

  3. পদ্মফুলের উপবেশনরত দেবতার শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী সাগরে আবির্ভাব এবং বণিকদের ব্যবসা

কাব্যে সমকালীন সমাজ, দরিদ্র ও ধনী উভয় শ্রেণীর জীবন এবং যৌথ পরিবারের সমস্যাগুলো বাস্তবতার সঙ্গে ফুটে উঠেছে। মুকুন্দরামের সাহিত্য দুঃখবাদের সঙ্গে আশাবাদের মিশ্রণ ঘটিয়েছে।

অর্জন ও স্বীকৃতি:

  • চন্ডীমঙ্গল কাব্যটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ ও অভিনব রচনা হিসেবে বিবেচিত।

  • মুকুন্দরামের চরিত্র ও রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য এবং সমাজ জীবনের সমন্বিত চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।

গবেষণামূলক তথ্য:

  • চৌদ্দ শতকের পূর্বে বাংলার নিম্নবর্গের মানুষ হিন্দু বা মুসলিম ধর্ম অনুসারী ছিল না।

  • এই সমাজের দরিদ্র ব্রাহ্মণরা পাঁচালির প্রধান রচয়িতা ও ধর্মান্তরের মাধ্যমে সমাজে স্থান পেয়েছিলেন।

  • মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...